টানা পরিশ্রম করার পরে
আমাদের মধ্যে একটি ক্লান্তি কাজ করে থাকে। এসময় ভারী
কিছু খাওয়ার সময় ও সুযোগ কোনটাই ঠিকমত থাকে না। আমাদের
শারীরিক কার্যকারিতা ঠিক রাখতে একটি নির্দিষ্ট
পরিমাণে খাদ্যশক্তি প্রয়োজন হয়ে থাকে। এরূপ অবস্থায় উপযুক্ত সমাধান হল
এমন কিছু খাবার গ্রহণ করা যা খুব অল্প সময়ে আপনার শক্তি বৃদ্ধিতে কাজ করে থাকে।
আনারসঃ আনারসে ব্রোমেলিন নামক একটি
এনজাইম রয়েছে যা সহজপাচ্য এবং শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি সরবরাহে কাজ করে
থাকে। এর আরেকটি বিশেষ গুণ হল এটি টক্সিন নিষ্ক্রিয় করতেও কাজ করে থাকে। তাই শরীরের চাহিদা, সময় এবং
স্থানভেদে এই ফলটি অন্য সব ফলের বিকল্প হয়ে উঠতে
পারে এবং শরীরে শক্তি শক্তি যোগান দিতে খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে।
কলাঃ সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সহজলভ্য ফলের মধ্যে অন্যতম হল কলা। এটি মূলত গ্লুকোজ
এ আঁশে ভরপর একটি ফল। কলা থেকে প্রাপ্ত গ্লুকোজ ও
ফ্রুক্টোজ খুব সহজেই হজম হয়ে যায় এবং শরীরে দ্রুত শক্তি
যোগাতে সাহায্য করে। কলা রক্ত সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতেও সাহায্য করে থাকে।
মধুঃ বিভিন্ন ধরনের গুণাবলীর জন্য মধু বিশেষভাবে পরিচিত খুবই জনপ্রিয়
একটি খাবার। এটি স্বল্প পরিমাণে গ্রহণ করলেও পর্যাপ্ত
খাদ্যশক্তি পাওয়া যায়। তাই এই ব্যস্ততার ভিড়ে এক চামচ মধু
আপনার দিনটিকে আরো প্রানবন্ত করে তুলতে সাহায্য করবে।
ডিমঃ আদর্শ
খাবারগুলোর মধ্যে অন্যতম হল ডিম। এতে সকল অত্যাবশ্যক অ্যামাইনো
এসিড থাকে বলে তা আমাদের জন্য খুবই উপকারী একটি খাদ্য। তাই তাৎক্ষণিক
মুহুর্তে একটি সিদ্ধ ডিম হতে পারে আপনার জন্য বিশেষ
শক্তির একটি যোগান। তবে হ্যাঁ যাদের কোলেস্টেরলের
পরিমাণ বেশি তাদের ক্ষেত্রে ডিম এড়িয়ে চলা উচিত।
বাদামঃ বিভিন্ন ধরনের বাদাম বিশেষত
কাজুবাদাম, আলমন্ড ইত্যাদি বাদাম অনেক
খাদ্যশক্তিতে ভরপুর। এগুলো উপকারী চর্বির অন্যতম উৎস
এবং আপনার শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি সরবরাহ করতে খুবই
কার্যকরী।
দইঃ স্বাস্থ্যকর খাবারগুলোর মধ্যে অন্যতম হল দই। এটি খেতে যেমন
সুস্বাদু তেমনি পুষ্টিকর এবং রোগ
প্রতিরোধে খুবই সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। দই প্রোবায়োটিক খাবার নামেও পরিচিত। দ্রুত শক্তি পেতে এবং সুস্বাস্থ্য বজায়
রাখতে আপনার খাদ্য তালিকায় এটিও রাখতে পারেন।
চা ও কফিঃ এতে ক্যাফেইন নামক একটি উপাদান থাকে যা শরীরে শক্তি
যোগাতে এবং মনকে প্রানবন্ত করতে তুলতে বিশেষভাবে সাহায্য করে থাকে। তাই
কাজের ফাঁকে চা অথবা কফি হতে পারে খুবই সুন্দর পানীয়।
ডাবের পানিঃ গরমের সময় আমরা বিভিন্ন
ধরনের পানীয় এর ওপর নির্ভলশীল হয়ে পড়ি। এময় ঘামের মাধ্যমে আমাদের শরীর
থেকে পানি বের হয়ে যায়। কিন্তু এটা প্রমাণিত যে ডাবের পানি পানি
স্বল্পতা পূরণে অধিত কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে। এতে উপকারী ইলেকট্রোলাইট রয়েছে যা আমাদের দেহের কার্যকারিতা
স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। সহজলভ্য বলে এটি খুবই
জনপ্রিয় একটি ফল এবং আপনার তৃষ্ণা পূরণ ও শক্তি প্রদান করতে
খুবই উপযোগী।
আমঃ আবার গ্রীষ্মকালের
সবচেয়ে জনপ্রিয় ফল হচ্ছে আম। ভিটামিনের পাশাপাশি এতে রয়েছে
বিভিন্ন ধরনের উপকারী খনিজ লবণ যা আমাদের দেহে
শক্তি যোগাতে ও রোগ প্রতিরোধে খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন
করে থাকে।
তরমুজঃ তরমুজ খেতে সুস্বাদু, পুষ্টিকর এবং
শক্তির যোগান দিতে তরমুজ খুবই জনপ্রিয় একটি খাবার। এটি সহজে হজম হয় এবং
তাৎক্ষণিক শক্তি প্রদান করতে কাজ করে। বিশেষত খালিপেটে তরমুজ খেলে এর
কার্যকরী দ্বিগুণ বেড়ে যায়। এতে রয়েছে লাইকোপেন যা ক্যান্সার প্রতিরোধেও
কাজ করে থাকে। তাই গ্রীষ্মকালে আপনাকে দ্রুত শক্তি এনে দিতে তরমুজ খুবই
একটি কার্যকরী ফল।

0 comments:
Post a Comment